নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের মতো ইবাদতের জন্য অজু করতে হয়। অজুর বিধান সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে মুমিনরা! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে। এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে…। ’(সুরা মায়েদা, আয়াত : ৬)
নুআইম মুজমির (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি অজু করে বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৬)
অজুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি নবীজি (সা.) নিজেই উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি হাদিসে নবীজির (সা.) অজুর বর্ণনা এসেছে। হজরত ইবনু আবু মুলায়কাকে অজু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি উসমান ইবনু আফফান (রা.)-কে অজু সম্পর্কে প্রশ্ন করেছি। তখন তিনি (উসমান রা.) (এক পাত্র) পানি চাইলেন। অতঃপর পানি আনা হলে তিনি তা থেকে সামান্য পানি ডান হাতের ওপর ঢেলে (তা ধৌত করলেন)। পরে তিনি সেই হাত পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তিনবার কুলি ও তিনবার নাক পরিষ্কার করলেন; অতঃপর স্বীয় মুখ তিনবার ধুলেন এবং তিনবার করে ডান হাত ও বাম হাত ধুলেন। পরে তিনি পাত্রের মধ্যে হাত দিয়ে পানি তুলে মাথা ও কান মাসেহ করেন এবং কানের ভিতর ও বহিরাংশ একরার করে মাসেহ করেন।
অতঃপর তিনি স্বীয় পা ধুয়ে বললেন, অজু সম্পর্কে প্রশ্নকারীরা কোথায়? আমি রাসুলকে (সা.) এইভাবে অজু করতে দেখেছি। (আবু দাউদ,হাদিস: ১০৮)
নখে ময়লা জমে থাকলে অজু হবে?
নখের ভেতরে সাধারণত যে ময়লা জমে থাকে তা নখের ভেতরে পানি পৌঁছতে বাধা সৃষ্টি করে না। তাই এ ধরনের ময়লা থাকা অবস্থায় অজু-গোসল হয়ে যাবে। তবে নখের ভিতর যদি এমন ময়লা জমে, যা ভেদ করে ভেতরে পানি পৌঁছতে বাধা দেয় তাহলে তা পরিষ্কার করে নেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় এ ময়লা থাকা অবস্থায় অজু-গোসল হবে না।
মনে রাখতে হবে, নখ অনেক বেশি বড় রাখা সুন্নত পরিপন্থী কাজ। নখের ভেতর ময়লা জমে থাকা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। তাই নখ বড় হলে তা কেটে ফেলা উচিত।
খুলনা গেজেট/এএজে

